বান্দরবান, ২০ জুলাই ২০২৫ — জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে বান্দরবানে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ।
ঘটনার সূত্রপাত ৩ জুলাই পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ অনুষ্ঠানে তাঁর একটি মন্তব্যকে ঘিরে।
সারজিস বলেছিলেন, “বান্দরবান হচ্ছে শাস্তিস্বরূপ চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পাঠানোর জায়গা।”
এই বক্তব্যকে স্থানীয় সংগঠন ও অধিবাসীরা অত্যন্ত অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে।
আজ দুপুরে বান্দরবান প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের নেতারা সারজিসের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান ঘোষণা করেন।
সহসভাপতি মাহির ইফতেখার বলেন:
“যদি সারজিস আলম প্রকাশ্যে ক্ষমা না চান, তাহলে বান্দরবানে এনসিপির সব কার্যক্রমকেও সম্পূর্ণভাবে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হবে।”
নেতা আসিফ ইসলাম জানান,
“১৯ জুলাই বান্দরবানে ‘জুলাই পদযাত্রা’র সমাবেশে সারজিসের জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি অনুপস্থিত ছিলেন, এমনকি কোনো কেন্দ্রীয় নেতা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।”
| মন্তব্য | প্রতিক্রিয়া |
|---|---|
| “বান্দরবান হচ্ছে শাস্তির জায়গা” | একটি জাতিগোষ্ঠীর সম্মিলিত মর্যাদার ওপর আঘাত |
| “চাঁদাবাজদের পাঠানো হয় এখানে” | বান্দরবানের প্রশাসন ও জনগণকে অপমান |
| “শাস্তিস্বরূপ বদলি” | পার্বত্য অঞ্চলের প্রতি রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের স্বীকৃতি |
বান্দরবান বাংলাদেশের একটি অন্যতম সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময়, প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ এবং জাতিগোষ্ঠীভিত্তিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র।
এখানে চাক, মারমা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, বমসহ প্রায় ১১টিরও বেশি জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে। দেশের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন, নিরাপত্তা, ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ অঞ্চল হিসেবে বান্দরবানের আলাদা মর্যাদা রয়েছে।
সুতরাং, এই জেলাকে “শাস্তির জায়গা” হিসেবে আখ্যায়িত করাটা শুধু রাজনৈতিক অশোভন নয়, এটি এক ধরনের জাতিগত অসম্মান।
রাজনৈতিক ভাষ্যকার মো. মাহবুব রশীদ মনে করেন:
“যে বক্তব্যটি একটি অঞ্চল ও জাতিগোষ্ঠীকে সংস্থাগতভাবে হেয় করে, তা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(১)–এ বর্ণিত সাম্য অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব তৈরি করতে পারে।”
✅ সারজিস আলমের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা
✅ এনসিপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান ঘোষণা
✅ যেসব সরকারি কর্মকর্তা ‘শাস্তির বদলি’ হিসেবে বান্দরবানে রয়েছেন, তাদের প্রত্যাহার
✅ পার্বত্য অঞ্চলের মর্যাদা ও অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিবৃতি
এই ঘটনার প্রভাব এনসিপির অভ্যন্তরেও পড়ছে। এর আগেও:
দুই নেতা পদত্যাগ করেছেন, যা তারা ফেসবুকে ঘোষণা দেন।
পাহাড়ি জনগণের সমর্থন আদায়ে এনসিপির প্রচেষ্টা এই মন্তব্যে মুখ থুবড়ে পড়ছে।
বান্দরবানকে অবজ্ঞাসূচক ভাষায় উপস্থাপন করে সারজিস আলম হয়তো এক মুহূর্তের বক্তব্য দিয়েছেন, কিন্তু তা পরিণত হয়েছে একটি রাজনৈতিক ও জাতিগত সংকটে।
এই মুহূর্তে এনসিপি যদি সত্যিকারের জনগণের দল হতে চায়, তবে তাদের উচিত:
সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করা, এবং
বান্দরবানের জনগণের মর্যাদাকে পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ নেওয়া।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |